নিজস্ব প্রতিবেদক

নানা রোগে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। শনিবার বিকাল পাঁচটার পর গুলশানের বাসা থেকে তিনি এভার কেয়ার হাসপাতালে যান।

খালেদা জিয়ার প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে বিএনপির পক্ষ থেকে সড়ক পথে গুলশানের বাসা থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার জন্য সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আবেদন করা হয়।

খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত আবেদনে বলা হয়, মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হবে।

সবশেষ গত ৮ নভেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

গত ১২ অক্টোবর শরীরের জ্বর অনুভব করার তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিছু পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা তাকে ভর্তির সুপারিশ করেন। এরপর তার শরীরের আরও কিছু পরীক্ষা করা হয়। তার শরীরের এক জায়গায় লাম্প দেখা দেয়।

পরে ২৫ অক্টোবর তার ছোট অপারেশন করা হয়। ফুসফুসের প্রকৃত অবস্থা জানতে করা হয় বায়োপসি। এভারকেয়ার হাসপাতালের বায়োপসি রিপোর্ট ভালো আসে। আরও উন্নত পরীক্ষার জন্য বায়োপসি নমুনা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট এখনও আসেনি।

খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। বাসায় চিকিৎসা নিয়ে করোনা থেকে সেরে উঠলেও শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। একপর্যায়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস তিনি সিসিইউতে ছিলেন। ১৯ জুন তিনি বাসায় ফেরেন।

এর মধ্যে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়া দুদফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান। ১৯ জুলাই করোনার প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার পর ১৮ আগস্ট দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেন খালেদা জিয়া।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হলে খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানো হয়। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার শর্ত সাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এ পর্যন্ত তিন দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

By sohail