নাটোর প্রতিনিধি

সিংড়া পৌর শহরের দিনমজুর আব্দুল জব্বার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। হতদরিদ্র সংসারের হাল এখন তার সহধর্মিনী হাসিনা বেগমের কাঁধে। উত্তর দমদমা মাঠের একটি সরকারি খালের পাঁচ কাটা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছিলেন তারা।

এখন স্বামী অসুস্থ, তার ওপর ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছিলেন না হাসিনা বেগম। এ অবস্থায় তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার কাক ডাকা ভোরে সিংড়া গোল-ই-আফরোজ সরকারি অনার্স কলেজের ভিপি সবিজ ইসলাম জুয়েলের নেতৃত্বে অর্ধশত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী স্বেচ্ছায় তার জমির ধান কেটে দেয়। পরে পাশের দরিদ্র আরো তিন কৃষক আব্দুল মান্নান, মোস্তাফিজুর ও আরিফ হোসেনের দুই বিঘা জমির ধান কেটে দেন তারা।

হাসিনা বেগম বলেন, ‘স্বামী অসুস্থ, সামান্য জমির ধান কাটা নিয়ে দুঃচিন্তায় ছিলাম। কিন্তু ছালপাল ধান কেটে দেয়ায় আমি খুব খুশি।’

কৃষক আব্দুল মান্নান ও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অল্প জমির ধান কেউ কেটে দিতে চায় না। আর কাটলেও বেশি টাকা গুণতে হয়। তাই নিজেই অল্প অল্প করে কাটার চেষ্টা করছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ির পাশের কলেজের ছাত্ররা আজ ধান কেটে দিচ্ছে। খুবই ভালো লাগছে।’

সিংড়া গোল-ই-আফরোজ সরকারি অনার্স কলেজ সংসদের ক্রিয়া সম্পাদক রেজাউল করিম রাজিব বলেন, চলনবিলের বোরো ধান কৃষকের চাহিদা মিটিয়ে সিংগভাগই অন্যান্য জেলার চাহিদা মেটায়। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। তাই সরকারি নির্দেশনা বাস্তাবায়নে চলনবিলের কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ।

কলেজের ভিপি সবিজ ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘বিগত দিনের বন্যা ও করোনায় মানুষের বিপদে-আপদে ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চলনবিলে অল্প জমি হলেই শ্রমিকরা ধান কাটতে চায় না। তাই প্রতি বছরের ন্যায় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে চলনবিলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে ছাত্রলীগ।’

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.