নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনায় আক্রান্ত দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরীক্ষার জন্য কথা শুনে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। দীর্ঘদিন পর কাছ থেকে খালেদা জিয়াকে দেখতে পেয়ে অনেকটা তৃপ্ত এসব নেতারা। তবে করোনার মধ্যে হাসপাতালে যাওয়ায় অসুস্থতার মধ্যেও নেতাদের নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তো খালেদা জিয়া বলেই ফেললেন, ‘এত ঝুঁকি নিয়ে কেন আসছেন?’ পরে নিজের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়াও চান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়ার পর কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে যেতে হয়েছিল হাসপাতালে। সেখান থেকেই সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে একবছরেরও বেশি সময় আগে গুলশানের বাসায় যান বিএনপি প্রধান। এরপর থেকে বাসায় থাকলেও করোনা শনাক্ত হওয়ার পর দুই দফায় বাসা থেকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। মঙ্গলবার রাতে যখন তিনি হাসপাতালে যান তখন বিএনপির মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দফায় গত ১৫এপ্রিল রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। সেদিন অবশ্য দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুসহ কয়েকজন নেতাকর্মী হাসপাতলে ছিলেন। সেদিনও কিছুটা ধমকের সুরে বুলুকে করোনার মধ্যেও হাসপাতালে কেন এসেছে তা জানতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

সেদিন বিএনপির এই নেতার জবাব ছিলো, ‘ম্যাডাম আপনাকে দেখার জন্য এসেছি।’ পরে অবশ্য টুকটাক কথা হয়েছে তাদের মধ্যে।

সবশেষ মঙ্গলবার রাতে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একই হাসপাতালে নেয়া হলে খালেদা জিয়া। পরে তাকে হাসপাতালটিতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, বিএনপি প্রধানের বেশ কিছু পরীক্ষা করতে হবে। বাসায় যাওয়া আসা করার চেয়ে স্বস্তির জন্য তাকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। দুই একদিন পর তিনি বাসায় ফিরবেন।

গতকাল রাতে সিটি স্ক্যান, আলট্রাসনোগ্রাম, ইকো-ইসিজিসহ কয়েকটি পরীক্ষা করা হয় বিএনপি চেয়ারপার্সনের। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের অধীনে সাত তলায় ৭২০৩ রুমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা।

বিভিন্ন পরীক্ষার সময় বেগম জিয়ার সঙ্গে ছিলেন মেডিকেল বোর্ডের তিন সদস্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন। হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসকরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ছাড়াও হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা রহমান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগরের উত্তর শাখা যুবদল সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

হাসপাতালে পুরো সময় ছিলেন এমন একজন নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মহাসচিব এবং আমি ম্যাডামের কাছে বেশ কিছু সময় ছিলাম। তাকে দেখে ভালোই মনে হয়েছে। আশা করি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

চেয়ারপারসনের সঙ্গে কোনো কথাবার্তা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে মুচকি হেসে ওই নেতা বলেন, ‘ম্যাডাম তো মহাসচিবকে বলতেছে এত ঝুঁকি নিয়ে কেন আসছেন? আপনার আসার কি দরকার ছিলো। দোয়া করবেন আমার জন্য সবাই।’

খালেদা জিয়ার এমন কথার পর এই নেতা বলেন, ‘আপনাকে দেখার জন্য আসছি আমরা। আপনার সুস্থতার জন্য সবাই দোয়া করতেছে।’

এদিকে হাসপাতালে যাওয়া একাধিক নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে ঢাকাটাইমসের। তারা বলছেন, করোনার মধ্যে ঝুঁকি আছে ঠিক কিন্তু চেয়ারপারসনকে এতদিন পরে কাছ থেকে দেখতে পাবেন বলে ঝুঁকির কথা ভাবেননি।

যদিও খালেদা জিয়া হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে যেসব নেতাদের ছবিতে দেখা গেছে সবাই মাস্ক পরিহিত অবস্থায় ছিলেন।

মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘অনেকদিন পর চেয়ারপারসনকে কাছ থেকে দেখলাম, সালাম দিলাম, একটু কথা বললাম এটাই শান্তির। যারা আমরা রাজনীতি করি তাদের কাছে এটা কতবড় আনন্দের বোঝানো যাবে না।’

কোনো কথা হয়েছে কি চেয়ারপারসনের সঙ্গে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না সামান্য কথা বলার সুযোগ হয়েছে। কেমন আছেন জানতে চেয়েছি। তিনি আমরা কেমন আছি জানতে চেয়েছেন, এইটুকুই। এই রুম থেকে ওই রুমে পরীক্ষার জন্য আনা নেয়ার মাঝে যতকুটু সুযোগ হয়েছে তখন একটু কথা বলেছি। ‘

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.