বিনোদন প্রতিবেদক

করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা আলমগীর। দুদিন আগেও জনপ্রিয় এই নায়কের শারীরিক অবস্থা জানতে কথা হয় তার স্ত্রী কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার সঙ্গে। তিনি জানান, আলমগীর পুরোপুরি সুস্থ আছেন। রিপোর্ট পজিটিভ আসলেও করোনার কোনো উপসর্গ তার শরীরে নেই। তিনি স্বাভাবিকভাবে খাবারও খাচ্ছেন।

অথচ দুদিন না যেতে রবিবার সন্ধ্যায় হঠাৎই সোশ্যাল মিডিয়া ও কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, নায়ক আলমগীর মারা গেছেন। এর পরই আলমগীরের কাছে ক্রমাগত ফোন আসতে থাকে তার আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের। নায়ক সবাইকে নিজে জানান যে, তিনি বেঁচে আছেন এবং সুস্থ আছেন।

এদিকে, এমন ঘটনা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আলমগীরের স্ত্রী রুনা লায়লা। সোমবার সকালে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ফেসবুক ও অখ্যাত কিছু নিউজ পোর্টাল থেকে গুজবটি ছড়ানো হয়েছে। এমন ঘৃণিত ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগকেও জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রুনা লায়লা।

গত ১৭ এপ্রিল সকালে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে গিয়ে আলমগীর, রুনা লায়লা, আলমগীর-কন্যা কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীরসহ ১২ জন একসঙ্গে করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেন। তার আগের দিন থেকে খুসখুসে কাশি ছিল নায়ক আলমগীরের।

এরপর টিকা গ্রহণের দিনে মোহাম্মদপুরের আসাদ অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দেন তারকা দম্পতি আলমগীর-রুনা লায়লা। পরের দিনই আসে রিপোর্ট। তাতে দেখা যায়, আলমগীরের রিপোর্ট পজিটিভ এবং রুনা লায়লার নেগেটিভ। ওইদিন বিকালেই রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আলমগীরকে। এখনো তিনি সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তি প্রসঙ্গে সে সময় রুনা লায়লা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আলমগীর সাহেবের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর ভাবলাম, বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাকে রাখা গেলে ভালো হবে। এরপর কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করে একটি হাসপাতালে কেবিন পাওয়া যায়। সেখানেই আলমগীর সাহেবকে ভর্তির ব্যবস্থা করোনা হয়।’

উল্লেখ্য, তারকাদের মৃত্যুর গুজব ছড়ানো নতুন বিষয় নয়। এর আগে নায়ক রাজ রাজ্জাক, এটিএম শামসুজ্জামান, প্রবীর মিত্র, এন্ড্রু কিশোর, আজম খান, আইয়ুব বাচ্চুদের মৃত্যুর গুজবও ছড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ছড়ানো হয়ে প্রয়াত অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যুর গুজব। কয়েকদিন আগে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিনেতা ও সাংসদ ফারুকেরও মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.