ক্রীড়া প্রতিবেদক

দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে নাজমুল হাসান শান্ত-মুমিনুল হকের সেঞ্চুরি এবং মুশফিক-লিটনের হাফসেঞ্চুরিতে ৫৪১ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুরন্ত সূচনা করে শ্রীলঙ্কা। ব্যাট হাতে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা লাহিরু থিরিমান্নেকে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে ফেরান তাইজুল ইসলাম। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১ উইকেটে ১১৩ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা।

থিরিমান্নে আউট হয়েছেন ৫৮ রানে। এখন ৪৩ রানে ক্রিজে অবস্থান করছেন অধিনায়ক করুনারত্নে।

দ্বিতীয়দিনের তৃতীয় সেশনের খেলায় আলোর স্বল্পতার জন্য খেলা চালানো সম্ভব হয়নি। ফলে আজ তৃতীয়দিনের খেলায় ফের ব্যাট করতে নামেন আগেরদিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম এবং লিটন ‍কুমার দাস।

এদিন নেমেই ক্যারিয়ারের ২৩তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন মুশি। এরপরই লিটনও ফিফটি পূর্ণ করেন। ৬৭ বলে ৫০ রান করে আউট হন লিটন। এরপর ব্যাট করতে নেমে ভালো করতে পারেননি মেহেদি মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। মিরাজ ৩ রানে এবং তাইজুল ২ রানে আউট হন। এরপর অষ্টম উইকেটে ব্যাট করতে নামা তাসকিন ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে কিছুক্ষণ দলীয় স্কোরটা বাড়িয়ে নেন মুশফিক।

৬৮ রানে মুশি এবং ৬ রানে তাসকিন অপরাজিত থাকেন।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন বিশ্ব ফার্নান্দো। এছাড়া একটি করে উইকেট পান দুজন বোলার।

এর আগে দ্বিতীয়দিনের খেলায় মুমিনুল-শান্ত মিলে বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন। দেশসেরা জুটির রেকর্ড গড়ার পর দারুণ এক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর আর বেশিক্ষণ ক্রিজে অবস্থান করতে পারেননি দলীয় অধিনায়ক ‍মুমিনুল হকও।

দ্বিতীয়দিনের খেলায় প্রথম উইকেট হিসেবে শান্তকে হারায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ১২৫তম ওভারের খেলায় নিজে বল করে শান্তর তুলে দেয়া মামুলি ক্যাচ লুফে নেন লঙ্কান বোলার লাহিরু কুমারা। আউট হওয়ার পূর্বে ৩৭৮ বলে ১৬৩ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার খেলা ইনিংসটি ১৭টি চার এবং ১টি ছয়ে সাজানো।

এরপর ১৪০তম ওভারে ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে লাহিরু থিরিমান্নের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মুমিনুল হক। এদিন ব্যাট করতে নেমে টেস্ট ক্যারিয়ারে বিদেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। টেস্টে এখন তার মোট সেঞ্চুরির সংখ্যা ১১টি। আউট হওয়ার পূর্বে ১২৭ রান করেন তিনি। তার ৩০৪ বলে খেলা ইনিংসটি ১১টি চারে সাজানো।

বুধবার ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার সাইফের উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিচলিত ছিল টাইগার শিবির। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটেই ঘুরে দাঁড়ায় সফররত বাংলাদেশ।

সুরাঙ্গা লাকমালের করা ম্যাচের প্রথম ওভারে দুটো চার মেরে দুর্দান্ত শুরু করেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসা নাজমুল হাসান শান্তকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় স্কোরটা বাড়াতে থাকেন তামিম। তামিম তুলে নেন তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের ৩০তম অর্ধ-সেঞ্চুরি। অন্যদিকে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন শান্ত।

এই দুই টাইগার ব্যাটসম্যান মিলে গড়েন ১৪৬ রানের জুটি। ৯০ রানে তামিম ফিরলেও আপনতালে খেলতে থাকেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক মুমিনুল হক সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়ার পাশাপাশি রানের পাহাড়ই গড়ছে টাইগাররা। ‍দুজন মিলে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১৫০ রানের জুটি।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.