নিজস্ব প্রতিবেদক

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের গ্রেপ্তারের পর নাশকতার উদ্দেশ্যে বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে পুরনো ভিডিও ‘লাইভ’ আকারে যারা ছড়িয়েছে, তাদের শনাক্ত করেছে র‌্যাব। এরই মধ্যে শতাধিক পেজ ও আইডি শনাক্ত হয়েছে। বাহিনীটি বলছে, পুরনো এসব ভিডিও লাইভ করত হেফাজতের আইটি টিম।

বৃহস্পতিবার বিকালে র‌্যাব সদরদপ্তরে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে ব্রিফ করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, হেফাজতের নেতারা গ্রেপ্তারের পর ফেসবুক লাইভে আগের সংঘর্ষের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ দিয়ে এই ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে র‌্যাব দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করবে।

কমান্ডার মঈন বলেন, আমাদের সাইবার মনিটরিং সেল রয়েছে। তারা শনাক্ত করেছে যে, হেফাজতে ইসলামের কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তারের পর নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ওই সংগঠনের আইটি টিম পুরনো ভিডিও ‘লাইভ’ আকারে ছড়াতো। যারা এ ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করত র‌্যাব তাদের শনাক্ত করেছে। তাদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী যে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছিল, ঠিক তখন থেকেই একটি কুচক্রী মহল দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলা-অরাজকতা সৃষ্টি করতে বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। র‌্যাব এসব ব্যক্তি বা দলকে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও স্থির চিত্র দেখে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে।

কমান্ডার মঈন বলেন, এসব অপরাধী শনাক্তে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এসব অপরাধী শনাক্তের পর আটক করে র‌্যাব আইনের আওতায় আনছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাবই প্রথম অভিযান চালিয়ে আটক করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সময়কালে ঘোড়ায় চড়ে বিক্ষোভ করা হেফাজতের এক কর্মীকে। শিশু বক্তাখ্যাত রফিকুল ইসলামকেও র‌্যাব গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনেছে।

ইতিমধ্যে র‌্যাব হেফাজতের ১২ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই দেশের বিভিন্ন জেলায় নাশকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন, যারা নাশকতা সৃষ্টির জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। তাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা বেশিরভাগই নাশকতা করার জন্য অনলাইনে বক্তব্য দিয়েছেন। এ বিষয়েও র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা কাজ করছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখেছি নেতৃস্থানীয় নেতা কেউ গ্রেপ্তার হলে তারা পুরনো ভিডিও ‘লাইভ’ বলে শেয়ার দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করত। আর আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি তাদের বেশিরভাগেরই নিজেদের শক্তি জানান দেয়া এবং রাজনৈতিক পরিচয়টাকে জানান দেয়া ছিল প্রধান উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য ঢাল-তলোয়ার হিসেবে বিভিন্ন মাদ্রাসা বা এতিমখানার কোমলমতি শিশুদের ব্যবহার করেছে তারা।

কতগুলো পেজ কিংবা ওয়েবসাইট দিয়ে তারা এসব ‘লাইভ’ করতো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, র‌্যাব শতাধিক পেজের সন্ধান এখন পর্যন্ত পেয়েছে, যারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ‘লাইভ’ করতো। আমরা একজন ব্যক্তির নামে একাধিক আইডি পেয়েছি, ওই আইডিগুলো দিয়ে এসব ‘লাইভ’ শেয়ার দেয়া হতো।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.