বিনোদন প্রতিবেদক

বলিউডে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত এবং রাখি সাওয়ান্তদের ‘বিতর্কের রানি’ বলা হয়। কিন্তু সেখানে তাদের কোনো রাজা নেই। আছেন বাংলাদেশে। তিনি ‘সারেগামাপা’ খ্যাত গায়ক মাঈনুল আহসান নোবেল। সারা বছরই কোনো না কোনো মন্তব্য এবং কাজের দ্বারা তিনি উঠে আসেন আলোচনার তুঙ্গে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নারী-পুরুষের অধিকার নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি ভাইরাল।

সম্প্রতি ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে নোবেল মন্তব্য করেন, দেশের ৮০ ভাগ পুরুষ তাদের স্ত্রীদের কাছে মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। গায়কের ভাষায়, ‘ইদানীং নারীর অগ্রাধিকার চর্চা করতে গিয়ে আমরা ‘সমানাধিকার’ শব্দটি ভুলে যাচ্ছি না তো? কিছু হইলেই আগে পুরুষরে ধইরা পিটাও! অথচ রিসার্চে পাওয়া গেছে, বাংলাদেশে ৮০% বিবাহিত পুরুষ স্ত্রীর মানসিক নির্যাতনের শিকার। বিষয়টা একবার ভেবে দেখবেন।’

নোবেল যা বলেন বা করেন- সব কিছুতেই তার বিপক্ষে দাঁড়ান নেটজনতা। তবে তার এবারের স্ট্যাটাসটি নজর কেড়েছে বহু পুরুষ ভক্ত-সমালোচকের। বিশেষ করে, বরাবর যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নোবেলের গুষ্টি উদ্ধার করেন, তারাও একমত হয়েছেন গায়কের বক্তব্যের সঙ্গে। তবে বরাবরের তো কেউ কেউ আবার তার বিপক্ষেই বলেছেন। যদিও কারও মন্তব্যেরই কোনো জবাব দেননি নোবেল।

এইতো চার-পাঁচদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে তারছেঁড়া বলে উল্লেখ করে আলোচনায় আসেন গোপালগঞ্জের ছেলে নোবেল। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে যারা গালিগালাজ করেন, তার সমালোচনা করেন, তাদের মুখোমুখি সামনে এসে মন্তব্য করার দুঃসাহস দেখাতে বলেন।

ওই স্ট্যাটাসে গায়ক লেখেন, ‘আমি মানুষটাই তারছেঁড়া। না হলে কী ১৬৫টি দেশের ২৫ কোটি বাঙালির তার ছিঁড়তে পেরেছি? সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই আমার সমালোচনা করেন, গালিগালাজ করেন। মুখোমুখি, সামনে এসে তাদের ব্যক্তি নোবেলকে নিয়ে মন্তব্য করার দুঃসাহস দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছি। পরিণতির দায়ভার আমি নিতে পারবো না। ভালো থাকবেন। অনেক ভালোবাসা। ফি-আমানিল্লাহ্।’

গায়ক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর থেকে নোবেল এভাবেই বিতর্কের আরেক নাম হয়ে উঠেছেন। ‘সারেগামাপা’ অনুষ্ঠানে গীতিকার ও সুরকার প্রিন্স মাহমুদের লেখা ও সুর করা একাধিক গান গেয়ে তিনি দর্শক ও বিচারকদের বাহবা পান। কিন্তু কোনো বারই নোবেল গানগুলোর স্রষ্টা প্রিন্স মাহমুদের নাম উল্লেখ করেননি। এ নিয়ে ফেসবুকে প্রিন্স মাহমুদ ক্ষোভ ঝাড়ার পর ক্ষমা চেয়ে নেন নোবেল।

এই বিতর্ক শেষ না হতেই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে তিনি ফের বিতর্কে জড়ান। একটি লাইভ সাক্ষাৎকারে হাজির হয়ে নোবেল মন্তব্য করেন, ‘‘রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের চেয়ে প্রিন্স মাহমুদের লেখা ‘আমার সোনার বাংলা’ গান জাতীয় সংগীত হিসেবে ভালো। এই গানের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বাঙালিদের আবেগ। এ নিয়ে সে সময় দুই বাংলার মানুষের রোষের মুখে পড়েন নোবেল।

এরপর ‘সারেগামাপা’-এর শো চলাকালীন এক বিচারককে নাকি নোবেল বলেছিলেন, ‘তার গান বিচার করার ক্ষমতা ওই বিচারকের নেই। যার কারণে জি বাংলা চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কিছুদিনের জন্য নোবেলকে সাসপেন্ড করে রাখে। শোয়ের বাকি প্রতিযোগীদের সঙ্গেও নাকি নোবেল বেশ নাকউঁচু ভাব নিয়ে চলতেন। এমনকী, বাংলাদেশের কোনো শিল্পীকেই তার যথাযোগ্য মনে হয় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পাশাপাশি গত বছর দেশের জনপ্রিয় এক ইউটিউবারের সঙ্গেও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর তর্কে জড়িয়ে পড়েন নোবেল। সে সময় ওই ইউটিউবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নোবেলকে রাজধানীর মগবাজারে র‌্যাব অফিসে গিয়ে হাজিরাও দিয়ে আসতে হয়। সেবার নোবেলকে শাসিয়ে ছেড়ে দেন র‌্যাব সদস্যরা। জানিয়ে দেন, আচরণ ঠিক না করলে ভবিষ্যতে তাকে বড় মাশুল দিতে হবে।

এছাড়া নোবেলের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে তাদের ঠকানোর মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এমন গুঞ্জনও রয়েছে, তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন আবার তালাকও দিয়েছেন। জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে মেহরুবা সালসাবিল নামে তরুণীকে বিয়ে করে বর্তমানে রাজধানীর নিকেতনে বসবাস করছেন। এটি নোবেলের তৃতীয় বিয়ে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.