নিজস্ব প্রতিবেদক

হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং জুলুম-নির্যাতন করার জন্য সরকার লকডাউন এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী। দেশবাসীকে লকডাউনের নামে আর কষ্ট না দিয়ে গ্রেপ্তারের তালিকা পাঠিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তালিকা পেলে তারা শান্তিপূর্ণভাবে সবাই জেলে চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন হেফাজত আমির।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাবুনগরী এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে হেফাজত আমির গণপ্রতিরোধ ও প্রতিবাদ ছাড়া সহজে আলেম-ওলামাদের গ্রেপ্তারের জন্য লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের নিম্নআয়ের গরিব মানুষকে আর হয়রানি ও কষ্ট না দিয়ে আমার কাছে তালিকাটা পাঠান, আমি অভিযুক্তদের সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জেলে চলে যাবো। একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না। এর বিনিময়ে আপনারা লকডাউন তুলে নিন। লকডাউনের অজুহাতে জোর, জবরদস্তি করে যেসব মাদ্রাসা ও হেফজখানা বন্ধ করে কোরআন-হাদিসের চর্চা বন্ধ করে দিয়েছেন, ওগুলো খুলে দিন। যাতে কোরআন-হাদিসের ব্যাপক চর্চার বরকতে দেশের ওপর আল্লাহর রহমত নাজিল হয়।’

বাবুনগরী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই রমজান মাসে রিমান্ডে নেয়া আলেম-ওলামাদের বিধর্মী এবং অবিশ্বাসীদের দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করাবেন না। তারা এই হজরতদের সাথে খুবই নিষ্ঠুর ও অপমানজনক আচরণ করছে। মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন এসব বরদাশত করবেন না।’

বাবুনগরী বলেন, ‘সারা বছরের মধ্যে পবিত্র মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য আমল করার সেরা সময়। আল্লাহর কাছে আনুগত্য ও গোলামি প্রকাশ করা এবং নেকি বৃদ্ধির জন্য গোনাহগার বান্দার আপন সত্তা ও অহং বিলীন করার মাস এই মাহে রমজান।’

হেফাজত আমির বলেন, ‘রাসুল সা. বলেছেন, মাহে রমজান হলো সাহায্য সহানুভূতির মাস। বাকি এগারো মাসের তুলনায় রমজান মাসে সকল ধরনের ইবাদত-বন্দেগির ফজিলত অনেক গুণ বেশি। অথচ এই মাসেই বাংলাদেশে জুলুম, গ্রেপ্তার, নির্যাতন চালানো হচ্ছে শত শত হেফাজত নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, ছাত্র ও তৌহিদি জনতার উপর।’

জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন করোনা পরিস্থিতির কারণে নিজ গৃহে বন্দি জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তখন জুলুম চলছে মসজিদ, মাদ্রাসা, হিফজখানা ও এসব প্রতিষ্ঠানের হেফাজতকারীদের ওপর। রমজানের এই পবিত্র মাসে ফিতনা-ফাসাদ এবং প্রতিহিংসা পরিহার করার শিক্ষা যখন ইসলাম আমাদেরকে দেয়, তখন সরকার ইসলাম প্রচারকদের বন্দি করে রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করছে। আমার এই সকল সহকর্মী হজরতগণ হাজতের নোংরা পরিবেশে স্বাচ্ছন্দে গোসল করতে, অজু করতে, নামাজ আদায় করতে, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করতে, সেহেরি খেতে ও ইফতার করতে পারছেন না। এসব জুলুম, বর্বরতা, মানবতার অপমান দেখে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নাখোশ হবেন।’

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.