নিজস্ব প্রতিবেদক

মহামারি করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ৯৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। তার আগে টানা চারদিন শতাধিক মৃত্যু ছিল করোনায়। এ নিয়ে মোট মৃত্যু ১০ হাজার ৭৮১।

বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ হাজার ৪২৯টি নমুনা পরীক্ষায় ৪ হাজার ১৪ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। এতে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪ জনে। পরীক্ষা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ২৬৬ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ ৬ লাখ ৪২ হাজার ৪৪৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং নারী ৩৬ জন। এখন পর্যন্ত পুরুষ ৭ হাজার ৯৪৮ জন এবং নারী মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৮৩৩ জন।

বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়াদের মধ্যে ৬০ ঊর্ধ্ব ৫৯ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন এবং ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২ জন রয়েছেন।

বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ৫৫ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২০ জন, রাজশাহীতে ৬ জন, খুলনায় ৫ জন, সিলেটে ৪ জন, রংপুরে ৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ জন মারা গেছেন।

দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকার পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চলতি বছরের শুরুতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মার্চ মাস থেকে তা শুধুই বাড়ছে। গত ১৬ এপ্রিল মৃত্যু একশো ছাড়ায়। সেদিন ও তার পরদিন ১৭ এপ্রিল ১০১ করে মৃত্যু হয় করোনায়। ১৮ এপ্রিল ১০২ জন ও ১৯ এপ্রিল ১১২ জন মারা যান, যা একদিনে সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞরা এটাকে বাংলাদেশে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বলছেন। করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় বুধবার থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার, যা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.