বিনোদন প্রতিবেদক

বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের সুপারস্টার নায়ক আলমগীর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তার জন্য সবার কাছে দোয়া চাইলেন সোনালি দিনের আরেক সুপারস্টার নায়ক উজ্জল। এই অভিনেতা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গত কয়েক মাস আমরা যারা সমসাময়িক একে অপরের সাথে যোগাযোগ, সম্পর্ক, ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শান্তিময়, আনন্দময় হয়ে উঠছিল। তেমনি আলমগীরের সাথেও।’

‘কিন্তু দুঃসংবাদ পিছু ছাড়ছে না। দুপুরে ফোন করে বললো- উজ্জল ভাই আমিও…। বললাম- কি? উত্তর- পজেটিভ। হাসতে হাসতে বলছিল। বললো হাসপাতালে ডাক্তারের পরামর্শমত ইনভেস্টিগেশন করিয়েছি। ওকে। চিন্তা কইরেন না। ওর বউ রুনা লায়লার ফেসবুক স্ট্যাটাসে সে রকমটাই পড়লাম। মন তো মানে না। তাই আমিও দেশবাসীর কাছে দোয়ার দরখাস্ত নিয়ে হাজির হলাম।’

নায়ক উজ্জলের প্রকৃত নাম আশরাফ উদ্দিন আহমেদ। তিনি একাধারে অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক। সুভাষ দত্ত পরিচালিত বিনিময় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রবেশ করেন। অভিনয় করেছেন প্রায় শতাধিক ছবিতে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ হলো, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, ইয়ে করে বিয়ে, নালিশ, নসিব, উসিলা, নিজেকে হারিয়ে খুঁজি। পাশাপাশি শক্তি পরীক্ষা, তীব্র প্রতিবাদ ও পাপের শাস্তি ছবিগুলো তিনি পরিচালনা করেছেন।

উজ্জল ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত নিয়মিত নাটক করতেন ঢাকা টেলিভিশনে। নাটকের অভিনয় দেখে প্রযোজকেরা তাকে চলচ্চিত্রে নেয়ার আগ্রহ দেখান। এরপর ১৯৭০ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বিনিময়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রবেশ করেন। প্রথম চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেন কবরী। এরপর ১৯৭২ সালে তিনি ইউসুফ জহির পরিচালিত হাস্যরসাত্মক-নাট্যধর্মী ‘ইয়ে করে বিয়ে’ ছবিতে বুলবুল আহমেদ ও ববিতার সঙ্গে অভিনয় করেন। একই বছর সুভাষ দত্ত পরিচালিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

আশির দশকের শেষের দিকে মমতাজ আলী পরিচালিত ‘নসিব’ চলচ্চিত্রে খলচরিত্রে অভিনয় করেন উজ্জল। ছবিটিতে তার অভিনয় সমাদৃত হয়। অভিনযের বাইরে উজ্জল একসময় চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফিল্মস লিমিটেড নামে তার একটি প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.