নিজস্ব প্রতিবেদক

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের পর জানা গেল তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১৭টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি দায়ের হয়েছে ১৩ সালে শাপলা চত্বরের ঘটনায়। যার সবকটিরই বাদী পুলিশ।

এছাড়া বাকি দুটি মামলার মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা ও পল্টন থানার মামলা রয়েছে। এই মামলা দুটির মধ্যে মোহাম্মদপুর থানার একজন বাসিন্দা ও পল্টন থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি করেন এক যুবলীগ নেতা।

মোহাম্মদপুর থানার মামলায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ- মারধর, হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাতে গুরুতর জখম, চুরি, হুমকি ও ধর্মীয় কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে গোলযোগ করা। ২০২০ সালে দায়ের হওয়া এ মামলায় গ্রেপ্তার মামুনুল হককে আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করবে পুলিশ। আজ তাকে আদালতে হাজির করবে পুলিশ।

ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডিবির মতিঝিল বিভাগে তদন্তাধীন আটটি মামলা, লালবাগ বিভাগে তদন্তাধীন দুটি মামলা এবং তেজগাঁও বিভাগে তদন্তাধীন একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মামুনুল হক। এছাড়া মতিঝিল থানায় তদন্তাধীন একটি এবং পল্টন থানায় তদন্তাধীন চারটি মামলায় তার নাম রয়েছে। ১৬টি মামলার মধ্যে ১৫টিই হয়েছে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের পর। ওই ১৫ মামলার বাদী পুলিশ। ১৬ মামলার অন্যটি সম্প্রতি পল্টন থানায় দায়ের করেন যুবলীগের এক নেতা।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে হেফাজতের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

রোববার (১৮ এপ্রিল) মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে নেয়া হয়।

সেখানে সংবাদ সম্মেলন করেন তেজগাঁও জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারিতে রাখার পর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।

হারুন অর রশীদ বলেন, মামুনুলের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা, থানা ও রেজিস্ট্রার অফিসে হামলা, ভাঙচুরসহ অনেকগুলো মামলা রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত চলছিল। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রেখেছিলাম, পাশাপাশি এসব মামলার তদন্ত করছিলাম। তদন্তে তার সুস্পষ্ট সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সেখান থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দুপুর ২টার দিকে তেজগাঁও থানায় নেয়া হয়। পরে রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি রাত কাটান।

হারুন বলেন, জিজ্ঞাসবাদে আরও বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আরও নাশকতাসহ অন্যান্য মামলা রয়েছে। সেগুলোতেও তাকে আগামীকাল গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে। সোমবার মোহাম্মদপুর থানার নাশকতা ও ভাঙচুর মামলায় তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

অন্যদিকে মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল আলিম বলেন, ২০২০ সালের ৭ মার্চ মোহাম্মদপুর থানায় হওয়া মামলায় মামুনুল হক সাত নম্বর আসামি। স্থানীয় এক নাগরিক তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। তবে তিনি বাদীর নাম বলতে পারেননি।

তেজগাঁও বিভাগ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরের চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের বাসিন্দা জি এম আলমগীর শাহীন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। মামলায় অভিযোগ ছিল, বেআইনি জনতাবদ্ধে এলোপাতাড়ি মারধর, হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে গুরুতর জখম, চুরি, হুমকি দেয়া, ধর্মীয় কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে গোলযোগ সৃষ্টি ও প্ররোচনা। একই মামলায় মোবাইল, সাত হাজার টাকা, ২০০ ডলার এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ডেবিট কার্ড চুরির অভিযোগও রয়েছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.