নিজস্ব প্রতিবেদক

চলমান লকডাউনে রাজধানীতে আইডি কার্ড দেখানো নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউর) সহযোগী অধ্যাপক মোছা. সাঈদা শওকতকে হয়রানি করা হয়েছে দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে করোনার এই সংকটকালে স্বাস্থ্যকর্মীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার জোর দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সোমবার বিকালে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলে, গতকাল বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বিএসএমএমএমইউর রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক মোছা: সাঈদা শওকত কর্তব্যস্থল থেকে দায়িত্বপালন শেষে বাসায় যাচ্ছিলেন। তখন পথে লকডাউনে পুলিশের টহলদলের সদস্যগণের সাথে কথোপকথনের সচিত্র প্রতিবেদন সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে বিএসএমএমইউর দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

সাঈদা শওকত দায়িত্ব পালন শেষে বিএসএমএমইউর লোগো সম্বলিত গাড়িতে আরোহিত অবস্থায় এলিফ্যান্ট রোডে পৌঁছার পর কর্তব্যরত পুলিশের টহলদল তাকে থামায়। পরে তার পরিচয় চাওয়া হলে তিনি তার চিকিৎসক ও বিএসএমএমইউয়ে কর্মরত পরিচয় জানান। পক্ষান্তরে, পুলিশের টহলদল তার চিকিৎসক পরিচিতিকে ‘ভুয়া’ বলে এবং অসৌজন্যমূলকভাবে তাকে গাড়ি হতে নামতে বলা হয়। ওই সময় তিনি তার নাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সম্বলিত অ্যাপ্রোন পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। অ্যাপ্রোন বিশ্বব্যাপী চিকিৎসকগণের পরিধেয় পেশাগত পোশাক হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে, দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের আচরণে এবং তার পরিচিতি ভুয়া হিসাবে অভিহিত করায় তিনি বিক্ষুব্ধ হন এবং পুলিশের সাথে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হন, যার খণ্ডকালীন সচিত্র প্রতিবেদন সামাজিক মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে বিএসএমএমইউর সাথে রমনা বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) এবং নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাথে মৌখিক আলোচনা হয়েছে।

দেশের এই করোনা প্রাদুর্ভাবের ক্রান্তিকালে বিএসএমএমইউ-সহ দেশের সকল হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীগণ জীবনবাজি রেখে রোগীর জীবন রক্ষার কাজ করছেন। ইতিমধ্যে বেশ কিছু চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়াও অসংখ্য স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিনিয়ত করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন।

দেশের এই ক্রান্তিকালে দেশ সেবায় নিবেদিত চিকিৎসককে অপমান ও অপদস্থ করার কারণে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে, যা দেশব্যাপী চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করার শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এমতাবস্থায়, বিএসএমএমইউর এই ঘটনার মাধ্যমে একজন নারী চিকিৎসককে হয়রানি করার ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে চলমান করোনা চিকিৎসার স্বার্থে স্বাস্থ্যকর্মীগণের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে।

এ ব্যাপারে রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আমাদের কর্মরত কর্মকর্তারা শুধু পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছে। আমরাও সব সময়ে পোশাক পরি। তারপরেও সব সময়ে পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে রাখতে হয়। আমরা সবসময়ে সবাইকে সহযোগিতা করছি। ভবিষ্যতেও করব।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.