নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা সরকারের তৈরি করা- এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘লকডাউনের সুযোগ নিয়ে ক্র্যাকডাউন করে নির্বিচারে আলেম-উলামাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ মেনে নেবে না মন্তব্য করে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব।

সোমবার বিকালে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এই দাবি জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘লকডাউনকে ব্যবহার করে ক্র্যাকডাউনে এরই মধ্যে বিএনপির তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে ধর্মীয় নেতা আলেম-উলামাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা ধর্মীয় মানুষ, শ্রদ্ধার পাত্র তাদের গ্রেপ্তার করে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘২৬ মার্চকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা সরকারের তৈরি করা। আমি এর আগেও বলেছি সরকার খুব পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনাগুলো যাতে ঘটে সে ব্যবস্থা নিয়েছে। আপনারা লক্ষ্য করেছেন ২৬ মার্চে কয়েকটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছিল। আমরা দেখেছি, বায়তুল মোকাররমে যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে অশান্তি করার জন্য পুলিশের সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল। তারপরে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকেরা তাদের ওপর হামলা করেছিল। সে কারণে হাটহাজারীতে ওই ঘটনাগুলো ঘটেছে। সে ঘটনাগুলো কিন্তু তারা কখনোই বলছে না। তারা বারবার করে দোষ চাপাচ্ছে ধর্মীয় সংগঠনগুলো এবং বিএনপি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমরা খুব স্পষ্ট করে বলেছি, এখনো বলছি, ওই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছি সেটা মানুষ মেরে ফেলার জন্য। সুবর্ণজয়ন্তীর ৫০ বছরকে মানুষের রক্ত দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে আমরা তার প্রতিবাদ করেছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ধর্মীয় নেতাদের এভাবে গ্রেপ্তার হয়রানি করা এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। আমরা তাই আহ্বান জানাবো, অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহার করা হোক, যারা আলেম-উলামা তাদের মুক্তি দেয়া হোক এবং বিএনপির যেসব নেতাকর্মীকের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও সব মামলা তুলে নেয়া হোক।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি করেছি উলামাদের সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাদের মুক্তি দিতে হবে। আমরা বারবার বলেছি হেফাজতের সঙ্গে আমাদের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। যোগসূত্র একটাই, তারা কোনো বিরোধী মতকে সহ্য করবে না। তারা বলছে, হেফাজত তাণ্ডব করছে। মূলত তাণ্ডবগুলো করছে সরকার। এটা তাদের পরিকল্পিত।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের রাজনীতি করতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে। তাদের রাজনীতি করতে হচ্ছে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করে। তাদের রাজনীতি করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সেই ক্ষেত্রে ওবায়দুল কাদের সাহেবদের আওয়ামী লীগকে আর গণতান্ত্রিক দল বলার কোনো অধিকার নেই। তারা যেটা বলছেন, সেটা ভূতের মুখে রাম রাম। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব প্রতিদিন একা একা কথা বলেন। তিনি বোঝাতে চান যে গণতন্ত্রের একমাত্র ধারক ও বাহক তারাই।’

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.