শরীয়তপুর প্রতিনিধি

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দাদন খলিফা নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীকে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত দাদনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে শুক্রবার সকালে মারা গেছেন। শরীয়তপুরের পালং মডেল থানা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দাদন খলিফা শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর খলিফা কান্দি গ্রামের সেকেন্দার খলিফার ছেলে।ঘটনার পর পরিবেশ শান্ত রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহত দাদন দেড়মাস আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে ১৯ দিন আগে বিয়ে করেছেন। স্বজনদের দাবি, দাদনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। চিকিৎসক বলছেন গুলি অথবা টেটার আঘাত কি না তা পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পালং মডেল থানা ও নিহতের স্বজনরা জানান, প্রতিবেশী ইদ্রিস খান, শাহজাহান খান গংদের সঙ্গে সেকান্দার খলিফাদের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে গয়ঘর খলিফা কান্দি মসজিদে তারাবির নামাজ শেষে সেকান্দার খলিফার ছেলে দাদন খলিফা তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আগ থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা দাদনকে রাস্তা থেকে তুলে পাশের পাট ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। পরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সন্ত্রাসীরা চলে যায়।

দাদনের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় পাঠায়। ঢাকা নেয়ার পথে বাবুবাজার ব্রিজের কাছে পৌঁছলে অ্যাম্বুলেন্সেই শুক্রবার ভোর সারে ৪টায় দাদনের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় দাদনের বাবা সেকেন্দার খলিফা বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আজ্ঞতা আরো ১৫ জনকে আসামি করে পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

নিহতের স্বজনরা দাবি করেন, ২৫ বছর আগে সেকান্দার খলিফার বোন দিলুনুরকেও পরিকল্পিতভাবে এই প্রতিপক্ষরাই কুপিয়ে হত্যা করেছিল।

নিহতের বাবা সেকান্দার খলিফা বলেন, দুই মাস আগে এসকান্দার সরদার তার পক্ষে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার জন্য প্রস্তাব করেন। এসকান্দার সরদারের প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তার পক্ষের ইদ্রিস খান, শাহজাহান খান, আবুল খান, আজাহার খান, রশিদ খলিফা, আজিত খলিফারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছেন। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দাবী করছি।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনীর আহমেদ খান বলেন, নিহতের গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কী ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার করে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, ঘটনার পরপর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ওসি বলেন, নিহতের বাবা ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা আরও ১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.