সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটির আওতায় সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোলা রাখা হয়েছে পোশাক কারখানা। এসব কারখানায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সতর্কতার পাশাপাশি কোথাও কোথাও রয়েছে ঢিলেঢালাভাব। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সতর্কতার অংশ হিসেবে বেশ কিছু শিল্পকারখানা শ্রমিকদের আগমন ও প্রস্থানের সময় চার থেকে ছয় পর্বে নির্ধারণ করে দিয়েছে।

তবে কারখানায় আসা-যাওয়ার জন্য নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার কথা থাকলেও তা রয়েছে উপেক্ষিত। বেশিরভাগ শিল্পকারখানার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে শ্রমিক পরিবহণের ব্যবস্থা না থাকায় কাজে যোগ দিতে কর্মস্থলে যেতে মারাত্মক ভোগান্তির কবলে পড়েছেন শ্রমিকরা। সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের দেড় হাজার তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক এই ভোগান্তির শিকার।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কেউ যাচ্ছেন হেঁটে কেউবা রিকশা বা পিকআপে। এতে তাদের গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাজের উদ্দেশ্যে দলে দলে গার্মেন্টসে যাচ্ছেন পোশাককর্মীরা। তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বের অভাব থাকলেও বেশিরভাগের মাঝেই দেখা গেছে স্বাস্থ্য সচেতনতা। তবে নিজেরা সচেতন হলেও কাজ করতে হবে অনেকের সঙ্গে একই ছাদের নিচে। তাই ভেতরে আতঙ্ক নিয়েই চাকরি ও সংসার বাঁচাতে কারখানামুখী হচ্ছেন তারা।

এ নিয়ে আব্দুল হাই নামে এক শ্রমিক বলেন, আমরা একই কারখানায় দুই থেকে তিন হাজার শ্রমিক কাজ করি। সবাই পৃথক বাড়িতে ভাড়া থাকি। কার বাড়িতে কার যাতায়াত এটা বলা কঠিন। করোনা আক্রান্ত রোগী যদি কোনো এক বাড়িতে আসে তাহলে আমাদেরও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, পাশাপাশি গার্মেন্টসে বেশ কয়েকটি স্তরে ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিকের হাত ঘুরে কোনো একটি পণ্য উৎপাদিত হয়। এক্ষেত্রে সংক্রমিত হবার শঙ্কা থেকেই যায়। তাই কাজে যেতে একটু ভয় করে। তাছাড়া লকডাউনে রিকশাভাড়া দুই/তিনগুণ হয়ে যায়। আমাদের খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু কারখানা কিংবা সরকার তো এই টাকা আমাদের দেয় না। তাই শুধু শ্রমিকদের জন্য পরিবহন সার্ভিসের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে পিকআপ ভ্যানে করে কারখানায় আসা সাবিনা বলেন, লকডাউনে আমাদের ফ্যাক্টরিতে যেতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। নারী শ্রমিক হয়েও অনেক কষ্টে পিকআপ ভ্যানে উঠেছি। গাদাগাদি করে ঝুঁকি নিয়ে কাজে যেতে হচ্ছে। ভাড়াও কয়েকগুণ বেশি। আগে আমার বাসা থেকে ডিইপিজেডের বাস ভাড়া ছিল ১০ টাকা। এখন ৫০ টাকায় যেতে হচ্ছে। শ্রমিকদের জন্য এখনো কোনো পরিবহনের ব্যবস্থা করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বলেন, এই ক্রান্তিলগ্নে শুধুমাত্র পোশাক কারখানা খোলা রয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে শ্রমিক বলেই কাজে যাচ্ছেন তারা। শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাই তাদের শতভাগ স্বাস্থ্য সুরক্ষার দাবি জানাই।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও তা করেনি। এ ব্যাপারে কারখানা মালিকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, পোশাক কারখানায় করোনা নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হলে বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে। কাজেই ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হতে হবে। নিজেদের বাঁচাতে নিজেদেরই লড়তে হবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.