মো. মোজাম্মেল হক, লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা : উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে বৃৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে আইনের কোনরকম তোয়াক্কা না করেই পরিকল্পনাহীন ভাবে নাটোরের লালপুরে দুই-তিন ফসলি জমিতে চলছে অবাধে পুুকুর খনন। এ ধরণের অবাধ ও পরিকল্পনাহীন পুকুর খনন বন্ধ না হলে স্থায়ীজলাবদ্ধতাসহ কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা কৃষিবিদরা। এতে শুধু কৃষি জমিই নষ্ট হচ্ছে না, বিরুপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপরেও। অপরদিকে মাটি বহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টরের মোটা ও ভারী চাকায় নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা বলছে, ‘মাঝে মধ্যে উপজেলা প্রশাসন পুুকুর খনন বন্ধে অভিযান চালিয়ে দুই একজন কে অর্থদন্ড করলেও তা কোন কাজে আসছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরেই আবার চলছে পুকুর খনন। প্রতিনিয়তই ইটভাটায় মাটি দেওয়ার কথা বলে ইট ভাটার পাশাপাশি এসব ফসলি জমির মাটি উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তি পর্যায়েও বিক্রয় করা হচ্ছে।’
পুকুর খননকরীরা বলছে,‘লিখিত অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তাদের মৌখিক অনুমতিতে পুকুর খনন করছেন তারা। তবে মৌখিক অনুমতির কথা অস্বিকার করে উপজেলা প্রশাসন দাবী করেছে পুকুর খনন বন্ধে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। পুকুর খননকারীদের কাছে যেন অসহায় হয়ে পরেছে স্থানীয় প্রশাসন।’

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার প্রতিটি এলাকায় ফসলি জমিতে চলছে পুকুর খনন । এর মধ্যে এবি, দুুয়ারিয়া, কদিমচিলন ও আড়বাব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেশি পুকুর খনন হচ্ছে। এই সব এলাকাতে প্রায় ১৫টি স্থানে এক্সেবেটর দিয়ে দুই তিন ফসিল জমিতে চলছে পুকুর খনন।কোথাও আবার কৌশল পাল্টে এক্সেবেটরের বদলে কোদাল দিয়ে পুকুর খনন হচ্ছে। দুয়ারিয়া ইউপির আহম্মেদপুর গ্রামের বিলে প্রায় ৬ বিঘা জমিতে লালন নামের এক ব্যক্তি এক্সেবেটর দিয়ে পুকুর খনন করছে। কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন,‘ আমরা সবাইকে ম্যানেজ করেই পুকুর খনন করছি। সবাই বিষয়টি জানে আপনার সাংবাদিকরাও জানে। সবার সঙ্গে কথা হয়েছে।’

এক্সেবেটর চালক দের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে নাম প্রাকাশ না করা শর্তে তারা বলেন,‘পুকুর খননের জন্য কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি করেই সকলকে ম্যানেজ করেই পুকুর খনন করছেন তারা। আর এই সব মাটি সর্বনিম্ন ৫শ থেকে ৮শ টাকায় বিক্রয় করছেন।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন,‘বিলের মধ্যে এভাবে পুকুর খনন করায় বিলের পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সৃষ্টি হবে। অনেকদিন যাবত বিলে জলাবদ্ধতা হয়ে থাকায় আমর জমিতে ফসল ফলাতে পারিনা। তারা আরো বলে, যাদের এই গুলি দেখার কথা তারাই তো দেখেন না আমরা কাকে বলবো বলেন..?।

লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান,‘কৃষি জমিতে ফসল নষ্ট করে পুকুর খনন আইনবিরোধী। এভাবে পুকুর খনন করায় কৃষি ক্ষেত্রে বিরুপ প্রভাব পরবে বলে তিনি মনে করেন।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাম্মী আক্তার বলেন,‘পুকুর খনন বন্ধে তাঁরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। আর্থিক জরিমানার সঙ্গে কারাদণ্ড ও এক্সেভেটরের ব্যাটারি জব্দ করছেন তিনি। পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনের পাশাপশি জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।’

By sohail

Leave a Reply

Your email address will not be published.