জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাশিয়ার সত্যিকারের বন্ধু ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুকে অসামান্য রাজনীতিক বলে আখ্যা দেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের তৃতীয় দিন শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় সের্গেই ল্যাভরভ এসব কথা বলেন।

আরও বলেন, রাশিয়া স্মরণ করছে শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি ছিলেন অসামান্য রাজনৈতিক ও বিপ্লবী নেতা। তার দেশের মানুষের স্বাধীনতা ও শান্তির জন্য তিনি লড়াই করে গেছেন। শেখ মুজিব ছিলেন রাশিয়ার প্রকৃত বন্ধু।’

বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার দুই মাসের মধ্যে মার্চ ১৯৭২-এ বঙ্গবন্ধু মস্কো সফর করেন উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়।

বক্তব্যে ভিডিও বার্তা দিতে পারাকে নিজের জন্য সম্মানের বলে মন্তব্য করেন ল্যাভরভ। বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে কথা বলতে সুযোগ করে দেয়াটা আমার জন্য দারুণ সম্মানের।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের সফলতাকে আমরা স্বাগত জানাই। আপনাদের দেশ ভালো করছে এবং ক্রমাগত উন্নতি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তা আলোচনা হচ্ছে। বৈশ্বিক সমস্যা দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও ঢাকা কাজ করছে।’

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় তিনি রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের চলমান প্রথম নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

বলেন, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ২০২৩-২৪ নাগাদ শেষ হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার একটি বড় অর্থনৈতিক অংশীদার বাংলাদেশ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ২৪০ কোটি ডলারের।

বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য রাশিয়া সব সময়ই রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম বন্দরকে মাইনমুক্ত করার জন্য সোভিয়েত নেভির একটি দল পাঠানো হয়েছিল। বাংলাদেশ রাশিয়ার এই সমর্থনকে মনে করেছে, যা প্রশংসার যোগ্য।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। এর পাশাপাশি এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দরিদ্রতার বিরুদ্ধে ঢাকা যুদ্ধ করছে।

ল্যাভরভ বলেন, বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

রাশিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বীপাক্ষিক রাজনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত বলে জানান ল্যাভরভ। বাংলাদেশ-রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে ‘আমি সন্তুষ্ট’ বলে বার্তায় উল্লেখ করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.