ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তিন রোগীর মৃত্যু হয়েছে ভেন্টিলেটর পরিবর্তনে দুর্ঘটনার কারণে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে তাদের মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বুধবার দুপুরে মহাখালীতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে আইসিইউতে থাকা সব রোগীকে সরিয়ে ফেলা হয়। তাদেরকে পুরনো বার্ন ইউনিটের আইসিইউ, নতুন ভবনের সিসিইউসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়।

বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে হাসপাতালের চতুর্থ তলার আইসিইউতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন তেমন বেশি না ছড়ালেও পুরো কক্ষ ধোঁয়ায় ভরে যায়। এ সময় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীর অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যরা দ্রুত রোগীদেরকে আইসিইউ থেকে সরিয়ে নেন। আইসিইউ থেকে সরিয়ে নেয়ার পর তিন জন রোগী মারা যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি দল আটটা ১৫ মিনিটে আইসিইউ থেকে দুজন রোগীকে উদ্ধার করে।

অনুষ্ঠানে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে প্রায় ২০ লাখ মানুষ কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। ভ্রমণকারীদের বেশিরভাগই স্বাস্থ্যবিধি মানেনি। সাধারণত সামাজিক আচার আনুষ্ঠানেও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি কারো খেয়াল নেই।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের অনেকের ধারণা, টিকা নিলেই করোনা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে। শুধু টিকা নিলেই করোনা মুক্ত হওয়া যাবে না। করোনামুক্ত হতে হলে আমাদেরকে এর উৎপত্তির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। উৎপত্তিস্থলে নজর না দিলে করোনা মোকবিলা কঠিন হবে।

বঙ্গবন্ধুর ১০১তম জন্মদিনে সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে সবাইকে কাজ করতে হবে। করোনা প্রকোপ এই সময়ে বেশি বেড়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তাই আমরা নিজেদের ও পরিবারে নিরপত্তার কথা ভেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবো।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.