দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। তিনি বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে। মেলা চলাকালে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ অবনতি হলে আমাদের নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয়তো অপ্রিয় কঠিন কোনো একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে আমাদের প্রার্থনা এটা যেন না নিতে হয়।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে অমর একুশে বইমেলা-২০২১ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বইমেলা হয় ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে মেলার আয়োজন হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী মার্চে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আমি মেলায় অংশগ্রহণকারী ও দর্শনার্থীদের আহ্বান জানাবো স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলায় প্রবেশ করতে।

কে এম খালিদ বলেন, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো সীমিত আকারে আয়োজন হচ্ছে। রমনার বটমূলের অনুষ্ঠান সীমিত পরিসরে হবে। ফলে, সেইদিন বইমেলায় জনসমাগম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এই দিনটিতে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনাও হাতে নিতে হবে। এটা নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রবি থেকে বৃহস্পতিবার মেলা চলবে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার মেলা শুরু হবে বেলা ১১টা থেকে। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

করোনা পরিস্থিতিতে শুরুতেই শিশুপ্রহর আয়োজন করা হচ্ছে না। পরিস্থিতি বুঝে পরে মেলায় শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হবে।

গতবারের মতো এবারও মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থা থাকবে। মেলার প্রচারের জন্য একাডেমির বর্ধমান হাউজের বেদিতে ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনটি তথ্যকেন্দ্র থাকবে। যথারীতি ফুড কোর্ট, নামাজের ব্যবস্থা এবং শৌচাগার থাকছে। নতুন আয়োজন হিসেবে ঝড়-বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও থাকছে ফ্রি ওয়াইফাই ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা দেড় মাস পিছিয়ে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। সেদিন বিকাল চারটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করবেন। বাংলা একাডেমির মূল মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক সামসুজ্জামান খান।

ইতোমধ্যে লটারি করে প্রকাশকদের স্টল ও প্যাভিলিয়ন বুঝিয়ে দিয়েছে মেলা কর্তৃপক্ষ। মহামারী পরিস্থিতি বিচেনায় এবার ভিড় এড়াতে স্টলের সামনে ফাঁকা জায়গা থাকছে বেশি; স্টলের দূরত্বও বাড়ানো হয়েছে।

ফলে এবার প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুটের বিশাল বিস্তৃতি পাচ্ছে বইমেলা; যা গতবারের প্রায় দ্বিগুণ। ২০২০ সালে বইমেলার আয়োজন হয়েছিল প্রায় আট লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.