কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলসহ জেলার তেরটি উপজেলায় কৃষকরা ঝুঁকছেন ভুট্টা চাষে। উৎপাদন খরচ কম, দাম ভালো এবং চাহিদা বেশি থাকায় ভুট্টা চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে তাদের।

গত কয়েক বছর ধরে লোকসানের কারণে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা। ধান চাষ কমলেও বেড়েছে ভুট্টা ও সবজির চাষ। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আগাম বন্যায় হাওরাঞ্চলে ধান চাষে ঝুঁকিও রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভুট্টা চাষে ঝুঁকি কম। কারণ বর্ষা আসার আগেই কৃষক ভুট্টা ঘরে তুলতে পারেন। ফলে বিকল্প ফসল হিসেবে দিন দিন বাড়ছে ভুট্টার আবাদ।

সরেজমিনে হাওর বেষ্টিত কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যেসব জমিতে গতবছরও ধান আবাদ হতো সেই সব স্থানে মাঠের পর মাঠ ভুট্টার ক্ষেত।

মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের কৃষক মোতালিব মিয়া বলেন, ‘আমরা সবসময় ধান চাষ করতাম। আগাম বন্যায় অনেকবার আমাদের ধান তলিয়ে গেছে। আবার ধানের ফলন ভালো হলেও দাম পাই না। এজন্য এবার ভুট্টার চাষ করেছি। পানি আসার আগেই সেগুলো উঠিয়ে ফেলা যায়, দামও ভালো পাওয়া যায়। এবারে জমি থেকেই অগ্রিম ভুট্টা ক্রয় করে নেওয়ায় আমরা আরও লাভবান হয়েছি।’

বাংলাদেশ মিলস্কেল রি-প্রসেস অ্যান্ড অ্যাক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সফল খামারি আলহাজ্ব এরশাদ উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে আমরা এই প্রথম গরু মোটাতাজা ও দুগ্ধ ফার্মের জন্য সরাসরি জমি থেকে ভুট্টার সাইলেজ তৈরির মেশিন আমদানি করি। আমাদের গরুর ফার্মের ব্যাবহারের জন্য কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের পাঁচশত একর ভুট্টার জমি থেকে অগ্রিম ভুট্টার চারা ক্রয় করে নিয়েছি। যেগুলো জার্মানি স্ট্যান্ডার্ডে জার্মান মেশিনে সরাসরি জমি থেকে সাইলেজ চপিং করা হয়।’

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) আশেক পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জেলার চার হাজার কৃষককে প্রণোদনার আওতায় ভুট্টার বীজ ও এমওপি এবং ডিএপি সার দেওয়া হয়েছে। ধান চাষে সেচের জন্য যে পরিমাণ সেচ দেওয়া লাগে ভুট্টাতে তেমন লাগে না। তাই হাওরের কৃষকরা দ্রুত ভুট্টা আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। গত কয়েক বছর আগেও এলাকায় ৫০ হেক্টরের মতো জমিতে ভুট্টা হত। এখন তা আশ্চর্যজনকভাবে বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জের তেরটি উপজেলায় সাত হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন। গত বছরে ছয় হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬১ হাজার ৩৬৪ মেট্রিক টন। আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৯৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ বেড়েছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.