প্রায় দুই বছর পর ভারত শাসিত কাশ্মীরে স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্র শাসিত কাশ্মীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ক্রমশ হ্রাস পাওয়ায় স্কুল খোলার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, অনবরত লকডাউনের কারণে স্কুল বন্ধ থাকার পর কর্তৃপক্ষ দুই বছর পর কাশ্মীরের স্কুল খুলে দিল। ২০১৯ সালে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর স্কুল বন্ধ করা হয়। এরপর ২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ফের স্কুল বন্ধ করা হয়। ভারত শাসিত কাশ্মীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ করোনা সংক্রমিত হয় এবং ১ হাজার ৯৫০ জনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে অঞ্চলটিতে সক্রিয় করোনা রোগী রয়েছে ৯০০ এর নিচে।

কাশ্মীরের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ দিন বাড়িতে থেকে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিল। স্কুল খোলার অপেক্ষায় ছিল তারা। আলিনা ওয়াশিম নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমরা বন্ধু এবং স্কুল থেকে দূরে ছিলাম। এটা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে। আমরা কারও সঙ্গে কথা না বলতে পারার কারণে হাতাশায় ভুগতাম। স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ালেখায়ও প্রভাব পড়েছে বলে জানান তিনি।

তবে কাশ্মীরের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে ফেরা কিছুটা অপরিচিত জায়গায় ফেরার মতো। কারণ, শিক্ষার্থী মনের মতো চলাচল করতে পারছে না কিংবা বন্ধুদের জড়িয়ে ধরতেও পারছে না।

কাশ্মীরের শ্রীনগর লিটল অ্যাঞ্জেল স্কুলে দেখা যায়, বড় ক্লাসের শিক্ষার্থীরা প্রবেশ পথে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তাদেরকে মাস্ক পরিধানরত এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় থাকতে দেখা যায়।

স্কুল খোলার বিষয়ে কেউ কোনো আপত্তি জানায়নি। শিক্ষক এবং স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে স্বশরীরে দেখা করতে পেরে শিক্ষার্থীরা বরং স্বস্তি বোধ করছে।

শুধুমাত্র যেসব শিক্ষার্থীর বাবা-মা অনাপত্তি পত্রে স্বাক্ষর করেছে তারাই স্কুলে ফিরেছে। শারীরিক উপস্থিতিতে ক্লাস চালু হওয়ার কারণে কোনো স্বাস্থ্য ইস্যু আসলে যেন কর্তৃপক্ষের দোষ না হয় এ কারণে কর্তৃপক্ষ এমন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।

সৈয়দ সায়েদীন রিজভী নামে এক ছাত্র বলেন, স্কুল খুলেছে তার জন্য আমরা খুশি। কিন্তু আমরা সংক্রমণবাহী হতে চাই না। আমাদের এবং শিক্ষকদের পরিবার আছে। থার্মাল স্ক্যানার, সামাজিক দূরত বজায় রাখা এবং ২০ মিনিট পর পর হাত ধোঁয়ার মত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। এসময় তিনি জানান, যদিও তাদের কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তবুও অনলাইন ক্লাসের থেকে স্বশরীরে ক্লাস অনেক ভালো। অনলাইন ক্লাসের কারণে তাদের চোখে সমস্যা এবং মাথা ব্যথা হয়ে যাচ্ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমতে শুরু করে। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে দেশের কয়েকটি রাজ্যে ফের করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ভারতে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের দিক দিয়ে ভারতের অবস্থান বিশ্বের সর্বাধিক সংক্রমণের শিকার যুক্তরাষ্ট্রের পর সর্বোচ্চ। ভারতে করোনায় ১ লাখ ৫৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.