অশ্লীল ভিডিও কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত প্রযোজক, অভিনেতাসহ একটি চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সাইবার ক্রাইম পুলিশ সেন্টার। সাইবার পুলিশের তদন্তে অশ্লীল ভিডিও কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত এমন আরও ১৫ থেকে ১৬টি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির সাইবার ক্রাইম পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কামরুল আহসান।

মঙ্গলবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করে আসছিল একটি চক্র। চক্রটি দেশের কয়েকটি জেলার বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে এমন ভিডিও তৈরি করত। এমনকি তারা এই কন্টেন্ট তৈরি করে বিপুল পরিমাণ টাকাও আয় করছে। বিষয়টি সাইবার পুলিশের নজরে এলে ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, অভিযানে ‘কমেন্ট মিডিয়া’র পরিচালক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও প্রযোজক মনির হোসেন রাজু, কেএমএইচ টিভির পরিচালক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, প্রযোজক ও অভিনেতা কাজী মনির হোসেন, ক্যামেরাম্যান রফিকুল ইসলাম, এছাড়া ইউটিউব চ্যানেল এসকে আগুন এর পরিচালনাকারী ও অভিনেতা এস কে আগুন এবং বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিওর অভিনেতা ও পরিচালক আসিফ আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে জানিয়েছেন, তারা অভিনয়ের কথা বলে বিভিন্ন আগ্রহী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে এ ধরনের অশ্লীল ভিডিও তৈরির কাজ করে থাকেন। পরবর্তী সময়ে তৈরিকৃত ভিডিওগুলো বিভিন্ন চটকদার শিরোনাম দিয়ে ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রচার করে। এর দ্বারা বিভিন্ন চ্যানেল ও ডিজিটাল প্লাটফর্মে সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ বাড়ানোর মাধ্যমে অনেক টাকা আয় করেছেন।

অভিযানে আটককৃতদের কাছ থেকে অশ্লীল ভিডিও তৈরিতে ব্যবহৃত ক্যামেরা, হার্ডড্রাইভ, পেনড্রাইভ ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

এমন ভিডিও তৈরিতে শুটিং স্পষ্ট ও সহায়তাকারীদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা মাত্র এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছি। আমাদের তদন্তে এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম পেয়েছি। এছাড়া ভিডিও তৈরিতে সহযোগিতা করছে এমন কিছু হোটেল ও রিসোর্টের তথ্য পেয়েছি। এছাড়া তারা যে টাকা আয় করেছে তার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’

এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, ‘এমন কোনো সমাজবিরোধী অপরাধ আমাদের নজরে এলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এরই মধ্যে আমরা টিকটিক, মিউজিক্যালি, ভিগোসহ বেশ কিছু অ্যাপসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ধরনের কন্টেন্ট সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক কলহসহ নানা আপরাধের জন্ম দিচ্ছে।’

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.