মশার যন্ত্রণায় রাজধানীবাসী অতিষ্ঠ। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিধনে কাজ চলছে। তবে জনসচেতনতা ছাড়া মশার উৎপাত থেকে নিষ্কৃতি মিলবে না বলে মনে করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জোবায়দুর রহমান। তার মতে, সিটি করপোরেশনে পাশাপাশি নাগরিক ও স্থানীয় হাউজিং সোসাইটির নেতাদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেই মশা নির্মূল সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

রবিবার বিকালে জোবায়দুর রহমান বলেন, ‘নাগরিকরা তাদের সমস্যার জন্য বলবে যে, তারা মশার কারণে অতিষ্ঠ। তাদের এই অভিযোগ সঠিক। সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধও। কিন্তু নাগরিকদেরও কিছু দায়িত্ব আছে।’

ড্রেন পরিষ্কার রাখা, এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখা, চারপাশে যেন কোনো নোংরা আবর্জনা না জন্মায় এই বিষয়গুলো নাগরিকদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে জানান সিটি করপোরেশনের এই কর্মকর্তা।

জোবায়দুর রহমান বলেন, ‘মশা কিন্তু নোংরা আবর্জনা থেকেই জন্মায়। পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন জায়গায় মশা জন্মাবে না। তার মানে আমরা যখন আমাদের চারপাশ অপরিচ্ছন্ন করে রাখছি, তখনই মশা জন্মাচ্ছে। এখানে আমাদের নাগরিকদের এই দায়িত্বটুকু অবশ্যই আছে।‘

‘মশা নিয়ন্ত্রণ সিটি করপোরেশনের একক প্রচেষ্টায় কোনোদিনও সম্ভব না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে একটা অংশে আছে সিটি করপোরেশন, একটা অংশে আছে কাউন্সিলর ও বিভিন্ন হাউজিং সোসাইটির নেতারা। আরেকটা জায়গায় আছে আমাদের জনসাধারণ। সবার দায়িত্ব আছে।‘

হাউজিং সোসাইটি ও নাগরিকদের দায়িত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সোসাইটি লিডার ও সদস্য আছে, তাদেরও কিন্তু দায়িত্ব আছে যে, তাদের চারপাশটা সুন্দর রাখার। দুইটা ভবনের মাঝখানের জায়গাটিকে আমরা বলি সার্ভিস প্যাসেজ। এই জায়গা পুরো একতা ডাস্টবিনে পরিণত করেছে। তিন থেকে চার ফুট উঁচু ময়লার স্তূপ। যা মশার আখড়া। বেশ কিছু খালি প্লট আছে, মালিক কোথায় থাকে, কেউ জানে না। নিচু জায়গা, সেখানে কচুরিপানা জন্মাচ্ছে বা পানি জমে আছে। মশা হচ্ছে। আমাদের সামাজিক নেতারা যারা আছেন, তাদেরকে এ বিষয়েও সোচ্চার হতে হবে।’

গত প্রায় দুই মাস ধরে রাজধানীতে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ বেড়েছে কিউলেক্স মশা। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী। নাগরিকদের মশার উপদ্রব থেকে রক্ষায় এরই মধ্যে একটা ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মশক দমনে উত্তর সিটির একটি অভিযান শেষ হয়েছে।

অভিযানে করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলের ৪৪ হাজার ৯৬৮টি সড়ক, নর্দমা, জলাশয়, স্থাপনা পরিদর্শন করছে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের অভিযান পরিচালনাকারী দল। এরমধ্যে ৩০ হাজার ১২৯টি স্থানে মশার প্রজননস্থল পাওয়া গেছে।

যেসব স্থাপনায় মশা প্রজননের মতো পরিবেশ বা লার্ভা মিলছে সেসব স্থাপনা মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও তাদের জরিমানার আওতায় নিয়ে আসছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু এটিকে সমাধানের পথ হিসেবে দেখছেন না প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আমরা জরিমানা করছি, নিয়মিত মামলা দায়ের করছি। এটা করে কিন্তু পরিত্রাণ মিলবে না। এটা অন্যদের জন্য একটা শিক্ষনীয় বিষয় হবে কিন্তু জনসম্পৃক্ততা যতদিন পুরোপুরি না হবে, জনসচেতনতা না হবে মশা থেকে নিষ্কৃতি কোনোদিনও পাওয়া যাবে না।‘

মশার হাত থেকে নাগরিকদের নিস্তার দিতে আবারও অভিযানে নেমেছে উত্তর সিটি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একেকদিন করপোরেশনের একেক অঞ্চলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে নগর কর্তৃপক্ষ। এ অভিযানে এক যোগে কাজ করছে করপোরেশনের এক হাজার ২০০ জন কর্মী, শতাধিক কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

মশক নিধনে উত্তর সিটির কৌশল সম্পর্কে জানিয়ে জোবায়দুর রহমান বলেন, ‘আমরা ড্রেনগুলোকে বন্ধ করে দিয়ে ইনটেনসিভ ফগিং করছি। এতে করে ভেতরের থাকা এডাল্ট মশা, লার্ভার মধ্যে এডাল্টগুলো মরে যাবে আর লার্ভার উপর একটা লেয়ার পড়বে, এতে করে লার্ভাগুলোও মরে যাবে। এটাকে ওয়েট ফগিং বলে। আমরা এই ওয়েট ফগিংটা করছি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে। আর বিকালে তো আমাদের ফগিং চলছে।‘

মশক দমনে দিনভর অক্লান্ত পরিশ্রম করছে সিটি করপোরেশন। চলতি অভিযান শেষ হলে মশার উপদ্রব কিছুটা হলেও কমবে। সিটি করপোরেশনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তার ভাষ্যমতে, ‘আমরা মনে করছি, আমার এখন যে অভিযান পরিচালনা করছি এটা শেষ হলে কিছুটা তো অবশ্যই কমবে। আমাদের প্রচেষ্টা কোনোদিনও বৃথা যেতে পারে না। আমরা মাঠে আছি, মেয়র মহোদয় মাঠে আছেন সারাদিন, আমাদের ১২০০ কর্মী, এক শতাধিক অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেট সবাই মাঠে আছে। এই প্রচেষ্টা অবশ্যই মূল্যায়িত হবে এবং কিছু মশা তো অবশ্যই কমবে। আমরা পুরোপুরি মুক্তি দিতে না পারলেও মশা কমবে এটুকু আমরা আশা করতেই পারি।‘

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.