‘ছবির ট্রেলার আমার ভালো লাগে নাই, ছবিটিও বেশ মানহীন, এ ছবি চলবে না’- সম্প্রতি একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদীন দীঘি তার অভিষেক ছবি ‘তুমি আছো তুমি নেই’ সম্পর্কে এমন বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই ক্ষেপে আছেন ছবিটির পরিচালক ও বিশিষ্ট চিত্রনাট্যকার দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। ইতোমধ্যে তিনি এবং ছবির প্রযোজক সিমি আদালতে দীঘির নামে এক কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন।

কিন্তু তাতেও দমেনি দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর রাগ। এবার তিনি দীঘিকে দুই পয়সার মেয়ে বলে কটাক্ষ করলেন। বৃহস্পতিবার বিবিএস বাংলা নামের একটি চ্যানেলকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন ‘তুমি আছো তুমি নেই’ ছবির নির্মাতা।

এর বিপরীতে সঞ্চালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টুকে প্রশ্ন করেন, একজন শিল্পীকে আপনি ‘দুই পয়সার মেয়ে’ বলছেন, এটা কি শোভনীয়? জবাবে পরিচালক বলেন, ‘অবশ্যই শোভনীয়। যে নায়িকা সিনেমা মুক্তির আগেই বলে ছবির ট্রেলার তার ভালো লাগে নাই, ছবি মানহীন, কেউ দেখবে না- তার দাম দুই পয়সাও নয়।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘দীঘিই পৃথিবীর একমাত্র অভিনেত্রী যে নিজের ছবি মুক্তির আগে এমন বাজে মন্তব্য করেছে।’

প্রসঙ্গত, আজ শুক্রবার সারা দেশের কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে শিশুশিল্পী হিসেবে খ্যাতি পাওয়া অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদীন দীঘির নায়িকা হিসেবে অভিষেক ছবি ‘তুমি আছো তুমি নেই’। এখানে তার বিপরীতে নায়িক আসিফ ইমরোজ। এই ছবিটির পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। প্রযোজক সিমি।

এই সিনেমার মুক্তিকে সামনে রেখে সপ্তাহ খানেক আগে প্রকাশ পায় ট্রেলার। সেটি দেখে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে শুরু হয় নানা সমালোচনা। ট্রেলারকে খুবই মানহীন বলে উল্লেখ করেন অধিকাংশ দর্শক। তারা নায়িকা দীঘি ও পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টুরও সমালোচনা করেন। বলেন, একজন প্রবীণ ও দক্ষ পরিচালক কীভাবে এমন মানহীন সিনেমা নির্মাণ করতে পারেন এবং দীঘির মতো অভিনেত্রীই বা কীভাবে এমন একটি ছবিতে অভিষেক করেন।

দর্শকদের এমন হাজারো নেতিবাচক মন্তব্য দেখে দীঘিও একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন যে, ট্রেলার দেখে নাকি তারই ভালো লাগেনি, দর্শকদের কীভাবে লাগবে। ওই সাক্ষাৎকারে দীঘি সিনেমাটিকে মানহীন এবং চলবে না বলে উল্লেখ করেন।

ব্যাস, এরপরই দীঘির ওপর ক্ষেপে যান নির্মাতা দেলোয়ার। তিনি বলেন, দীঘি এভাবে কথা বলতে পারে না। ওকে দিয়ে ওর মামা এ কথা বলিয়েছে এবং সব জেনে ওর বাবা চুপ করে আছে। তিনি সবার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন এবং শেষ পর্যন্ত মামলা করেন।

যদিও দীঘির তার মন্তব্যের জন্য আগেই ক্ষমা চেয়ে নেন, নির্মাতা ঝন্টুকে ‘স্যরি’ও বলেন। বলেন, ‘ঝন্টু আংকেল আমার ওপর কেন এত রাগ করেছেন, সেটা আমি জানি না। আমি এমন কোনো মন্তব্য করিনি যে, উনি আমার নামে মামলা করতে চাইবেন। উনি আমার গুরুজন। আমার কাছে অনেক সম্মানের একজন মানুষ। আমি যদি কোনোভাবে, কোনো কথায় উনাকে দুঃখ দিয়ে থাকি তাহলে তাকে ‘স্যরি’ বলছি।’ কিন্তু তাতে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরেননি নির্মাতা।

এর আগে ছবির কাজ শুরুর আগে নায়ক বাছাই নিয়ে হয় একপ্রস্থ নাটক। প্রথমে এই ছবিতে দীঘির বিপরীতে অভিনয়ের জন্য বাপ্পী চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়। নতুন এই জুটি একসঙ্গে ফটোশ্যুটও করেন। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে কাজ শুরুর আগে ছবি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন বাপ্পী। এরপর নায়ক সায়মন সাদিককে চূড়ান্ত করা হয়। শুটিং শুরুর আগে সরে পড়েন তিনিও। শেষমেশ আসিফ ইমরোজকে নায়ক বানিয়ে শুরু ছবির শুটিং।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.