গাড়ি থেকে নেমেছে নিরব। চোখে তার সানগ্লাস। গাড়ি থেকে নামা মাত্রই এক ভিক্ষুক হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তার দিকে। মেয়ের অসুস্থতার জন্য সাহায্য চায়। নিরব ম্যানিব্যাগ বের করে ১০০ টাকার একটি নোট দিয়ে দেয় ভিক্ষুককে। সামনে পা বাড়াতে যাবে নিরব, হঠাৎ ভিক্ষুককে দেখে অবাক হয়ে যায়। চোখের সানগ্লাস খুলে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

কিন্তু কেন? কারণ ভিক্ষুকটি আর কেউ নয়, তার কলেজ জীবনের স্যার রহমত উল্লাহ। বোবা হয়ে যায় নিরব। তার অবাক দৃষ্টি দেখে রহমত উল্লাহ স্যারও অবাক হয়ে জানতে চায় নিরবের পরিচয়। নিরব কী করবে বুঝতে পারছে না। চোখ দুটি টলমল করে উঠে। কারণ, রহমত উল্লাহ একজন সৎ শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ছাত্ররা দেশের অফিস-আদালতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

কিন্তু রহমত উল্লাহ স্যারের এমন হাল হলো কী করে? নিরব তার প্রিয় স্যারের করুণ অবস্থা অনুসন্ধান করতে শুরু করে। স্যারের একমাত্র উচ্চ শিক্ষিত মেয়ে ইয়াসমিনের স্বামী যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে তাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। স্যার ও তাঁর মেয়ের করুণ পরিণতি নিয়ে নিরব মাঠে নামে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে।

অবশেষে স্যারের মানবতার জীবনের কি অবসান হয়? স্যারের মেয়ে ইয়াসমিনের স্বামীর কি বিচার হয়? নিরবের সঙ্গে ইয়াসমিনের ছাত্র জীবনের প্রেমের কি মিলন হয়? এই সব প্রশ্নের উত্তর দেবে ‘স্যারের মেয়ে’ নাটকটি। এটি রচনা করেছেন মিজানুর রহমান বেলার। পরিচালনা করেছেন নন্দিত নাট্যনির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী।

এই নাটকে রহমত উল্লাহ স্যারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন খ্যাতিমান অভিনেতা আবুল হায়াত। ছাত্র নিরবের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনোজ প্রামাণিক। স্যারের মেয়ে ইয়াসমিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী মৌ। এছাড়া নাটকটিতে রাজিবসহ আছেন অনেকে।

নতুন এ নাটক প্রসঙ্গে নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী বলেন, ‘নতুন ধরনের গল্প। এ ধরনের গল্প নিয়ে এর আগে কাজ করা হয়নি। নির্মাণও ভালো হয়েছে। বেশি কিছু বলব না। শুধু বলব, দর্শক অনেক বছর পর ভিন্ন ধারার একটি নাটক দেখতে পাবেন। তাতেই আনন্দিত। নাটকটি শিগগির একটি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলে প্রচার হবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.