সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টের গণসমাবশে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের উন্নয়নের ব্যাপারে উদার। প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ আর জনগণের সম্পদ নিয়ে খেলা চলতে দেওয়া হবে না। যেখানে দুর্নীতি হবে সেখানেই জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। ছাতক থেকে দোয়ারাবাজার হয়ে রেললাইন স্থাপনের যে সার্ভে চলছে, যেটি যেন অন্য কোনদিকে ঘুরিয়ে যেন ব্যাঘাত সৃষ্টি না করা হয়।

ঢাকা-সিলেট ৬ লেন সড়কের সঙ্গে এবার সুনামগঞ্জ যুক্ত না হলে আর কোনদিন যুক্ত হবে না। তিনি আমাদের কখনো খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের সাথে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অন্তর্ভুক্ত ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট দূর করার দাবিতে ‘সুনামগঞ্জবাসী’ আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলার সকল এমপিদের আহ্বান জানিয়ে পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে অধিকার আদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাই। দাবি আদায়েই ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। পরিকল্পনামন্ত্রীর এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল, জানি না তিনি কী করেছেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলে সিলেট বিভাগের তিনটি জেলা এর সাথে যুক্ত হবে। কিন্ত আমরা এর বাইরে থেকে যাব। এখনই সময় বিষয়টি মাননীয় প্রধানন্ত্রীর সামনে তুলে ধরার।

জেলার স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা তুলে ধরে তিনি এই সাংসদ বলেন, জেলার ৩০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তির একমাত্র জায়গা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার, নার্স ও টেকনেশিয়ানের পদগুলো শূন্য। ৬০ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র ১৪ জন রয়েছেন হাসপাতালটিতে। এতে মানুষ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জরুরিভিত্তিতে ডাক্তার-নার্স নিয়োগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সাথে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চালু করতে হবে। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি সেটি অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে, এটা বন্ধ করতে হবে। আমি সংসদে, সংসদের বাইরে এ নিয়ে কথা বলেছি। কোন লাভ হয়নি।

জেলায় চলমান ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার কৃষকের বছরের একটি মাত্র ফসল রক্ষা করতে ১৩৩ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ দিয়েছে। কারো অবহেলা কিংবা দুর্নীতির কারণে মানুষের সোনার ফসল যদি পানির নিচে তলিয়ে যায়, তবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নদী ভাঙন রোধে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের করতে হবে। অনেক স্থানে মানুষের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সেটির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সজ্জাদুর রহমান সাজুর সঞ্চালনায় গণসমাবেশে আরো বক্তব্য দেন- সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি সাইফুর রহমান সামছু, সুনামগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোশনূর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মাস্টার, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, জেলা জাপা নেতা রশিদ আহমদ, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, জেলা জাপার সদস্য সচিব ও সাবেক প্যানেল মেয়র মনির উদ্দিন মনির, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলার পেয়ারা বেগম প্রমুখ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.