অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আওয়ামী লীগ দলীয় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে প্রায় ১৪ বছর আগে বিচারিক আদালতের দেয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে জজ আদালতের দেয়া তিন বছরের কারাদণ্ডের রায় থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হাজী সেলিমের আপিলের ওপর শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ৯ মার্চ দিন ঠিক করেন হাইকোর্ট।

রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পুরান ঢাকার এই আওয়ামী লীগ নেতাকে বিশেষ জজ আদালত-৭ এ আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তার জামিন নামা বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদক মামলা করে। এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ১০ বছর ও তথ্য গোপনের দায়ে তিন বছরসহ মোট ১৩ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত।

২০০৯ সালের অক্টোবরে রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হাজী সেলিম। ২০১১ সালের জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে তার সাজা বাতিল করে। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আবার আপিল করে দুদক।

ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের সাজা বাতিলের রায় বাতিল করে পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

এর পর গত বছরের ১১ নভেম্বর এ মামলার বিচারিক আদালতে থাকা যাবতীয় নথি (এলসিআর) তলব করেন উচ্চ আদালত। সে আদেশ অনুসারে নথি আসার পর আপিল শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। গত ৩১ জানুয়ারি এই মামলায় পুনরায় শুনানি শুরু হয়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানির শেষদিন আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। হাজী সেলিমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তামান্না ফেরদৌস। ৯ মার্চ রায়ের জন্য মামলাটি আদালতের কার্যতালিকার এক নম্বরে রাখা ছিল।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.