বরিশাল নগরীর বিবির পুকুরপাড়ে ফুটপাতের দোকান থেকে ভেজিটেবল বার্গার খাচ্ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম। হঠাৎ মুখের মধ্যে শক্ত কিছুর অবস্থান টের পেয়ে ভেবেছিলেন ভেজিটেবল বার্গারে ভুলক্রমে চিকেন বা বিফ দেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর সেই ভুল ভাঙতে সময় লাগেনি। মুখ থেকে বার্গারের কিছু অংশ বের করে দেখেন আস্ত ব্লেড!

সোমবার রাতের ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর কাছে ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যান দোকানি মনির। কিন্তু পুকুরপাড়ে আগতরা ক্ষোভ জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, সঠিক মনিটরিং না থাকায় অনিয়ম ও অপরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে এখানকার ফুটপাতের খাবার। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন সেই খাবার বিক্রি করা হলেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের সঠিক মনিটরিং না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই খাবার খেতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি একটি প্রতিষ্ঠানে পার্টটাইম চাকরি করি। কার্যালয়ের সন্ধ্যাকালীন নাস্তায় দেওয়া হয় ভেজিটেবল বার্গার, যা বিবির পুকুরপাড়ের মনিরের দোকান থেকে আনা হয়। সেই বার্গার খেতে গিয়ে মুখের মধ্যে শক্ত কিছুর অবস্থান টের পেয়ে বের করে দেখি ব্লেড।
ব্লেডটি দাঁতের কামড়ে টের পেয়েছিলাম বলে মারাত্মক কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

বার্গার বিক্রেতা মনির বলেন, কোনো বিক্রেতাই ক্রেতাকে খারাপ মানের খাবার খাওয়াতে চায় না। আমার দোকানের বার্গারে ব্লেড পাওয়া গেছে তা সত্যি, যা অসচেতনতাবশত হয়েছে। মনে হয় ময়দার মধ্যে পূর্বে থেকেই ব্লেড ছিল। এ জন্য আমি ক্ষমা চেয়েছি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শাহ সোয়াইব মিয়া বলেন, বিবির পুকুরপাড়ের খাবার বিক্রেতাদের সতর্ক করতে প্রায়ই কার্যক্রম চালিয়ে থাকি। ভোক্তাদের অভিযোগ ছাড়াও অভিযান পরিচালনা করা হয়। নিয়মিত মনিটরিং চলছে।

সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ইদানীং ফুটপাতে খাবার দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। দোকানদারদের মধ্যে শিক্ষিত-অশিক্ষিত রয়েছে। করোনার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এখনও শুরু হয়নি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠলে অভিযান শুরু হবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.